দুপুর ২:৩৬,   রবিবার,   ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং,   ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

আজ উদ্বোধন হবে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র


স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা স্থায়ীভাবেই বন্ধ হতে যাচ্ছে। শহরতলির ইকবাল নগরের সুনামগঞ্জ ১৩২/৩৩ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা শেষ হতে যাচ্ছে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ গ্রিড উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী একই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মাণ করা আরো ৮টি গ্রিড উপকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন।
২০১২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের কুমারগাঁও সাবস্টেশন উদ্বোধন করতে এলে বিদ্যুৎ গ্রিডের পরিচালক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবীর ইমন সুনামগঞ্জে একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রয়োজনীয়তা বুঝে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুনামগঞ্জে একটি সাবস্টেশন নির্মাণের নির্দেশ দেন। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে শহরের সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দেখার হাওরের পাশে ইকবালনগরে উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে এটি নির্মাণ করার জন্য দরপত্র আহ্বান করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। এটি নির্মাণের কাজ পায় সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এবিপি’। ছাতক থেকে সঞ্চালনসহ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিডের চেয়ারম্যান নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ চার বছর দুটি গ্রিড স্টেশন, নতুন খুঁটিসহ ছাতক থেকে অত্যাধুনিক সঞ্চালন লাইনের কাজ চলতি বছরের প্রথম দিকে শেষ হয়। বর্তমানে ১৩২/৩৩ গ্রিডের কেভি উপকেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবাহের জন্য প্রস্তুত।
সুনামগঞ্জে পিডিবি’র বিদ্যুতের প্রয়োজন দৈনিক ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে ছাতক বিদ্যুৎ গ্রিড সাবস্টেশন হয়ে জেলার প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের জন্য পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ৫-৬ মেগাওয়াট। চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ সরবরাহ না করায় জেলা শহরের প্রত্যেকটি ফিডারে লোডশেডিং করতে হয়। ছাতক থেকে হাওর এলাকা দিয়ে আসা পুরনো বিদ্যুৎ লাইনে দিনে ২-৩ বার ত্রুটি দেখা দেয়। দীর্ঘ লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন হওয়ার কারণে লো-ভোল্টেজ লেগেই থাকে। বিদ্যুতের সিস্টেম লসও হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
বিদ্যুৎ বিভােেগর আশা নতুন এই উপকেন্দ্রটি চালুর মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সমস্য অনেকটাই কেটে যাবে। ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে হাজার হাজার গ্রাহক।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের পরিচালক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন বলেন, শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের প্রতিটি ঘর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। শহরের মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি। স্টেশনটি চালু হওয়ায় সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের বিদ্যুৎ ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি সুনামগঞ্জে গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা। সর্বোপরি বদলে যাবে জেলা শহরের দৃশ্যপট।