দুপুর ২:৩০,   বৃহস্পতিবার,   ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং,   ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

‘জ্ঞানের সাগর’ বাউল সাধক দুরবীন শাহ’র আজ জন্মদিন

স্টাফ রিপোর্টার :
‘জ্ঞানের সাগর’ খ্যাত মরমী গীতিকবি, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাউলসাধক দুর্বিন শাহর আজ শনিবার (২ নভেম্বর) জন্মদিন।
১৯২০ সালের আজকের দিনে (১৩২৭ বঙ্গাব্দের ১৫ কার্তিক) তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাতক থানার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই তারামনি টিলা কালান্তরে দুরবীন টিলা নামে পরিচিত হয়।
মরমী গীতিকবি, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাউলসাধক দুরবীন শাহ। তার পিতা সফাত আলি শাহ ছিলেন একজন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন একজন পীরানী (পীর)। যে কারণে দুরবীন শাহ সঙ্গীতচর্চার ক্ষেত্রে নিজ পারিবারিক ঐতিহ্যেই বেড়ে উঠেছেন।
তার রচিত অধিকাংশ গানে সুফি ও মরমিবাদ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠলেও এসবের বাইরেও তিনি ভিন্ন মেজাজের অসংখ্য গান লিখেছেন।
শ্রেণী বিভাজন করলে এসব গানগুলোকে বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, গোষ্ঠ, মিলন, রাধা-কৃষ্ণ বিষয়কক পদাবলী, হামদ-নাত, মারফতি, পীর-মুর্শিদ স্মরণ আল্লাহকে-স্মরণ, নবী স্মরণ, ওলি আউলিয়াকে স্মরণ, ভক্তিগীতি, মনঃশিক্ষা, সুফিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, পারঘাটাতত্ত্ব, দেশের গানসহ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এছাড়াও বিবিধ শিরোনামে তার রচিত আরো বিভিন্ন পদাবলীকে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
তিনি ১৯৬৭ সালে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন। তার অন্যতম সফর সঙ্গী ছিলেন বাউলসাধক শাহ আবদুল করিম।
সেখানে দুরবীন শাহের গানের কথা ও সুরে বিমোহিত হয়ে সঙ্গীত প্রেমীরা তাকে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
মাত্র সাত বছর বয়সে বাবাকে হারান এই বাউলসাধক। ১৯৪৬ সালে সুরফা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।
তার রচিত গান গুলোর কয়েকটি হল – নির্জন যমুনার কূলে বসিয়া কদম্বতলে, আমার অন্তরায় আমার কলিজায়
সুখের নিশি প্রভাত হলো উদয় দিনমণি, শমন লইয়া পিয়ন খাড়া আর কত দিন দেরি, ছাড়িয়া যাইও না বন্ধু রে, পরদেশীরে দূর বিদেশে ঘর, নব যৌবন আষাঢ় মাসে, তোমার মতো দরদী কেউ নাই, বন্ধু যদি হইতো নদীর জল
বিখ্যাত এই বাউলসাধক ৫৭ বছর বয়সে ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ৩ ফাল্গুন, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।