দুপুর ১:৫৭,   রবিবার,   ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং,   ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

পরিবহন ধর্মঘট : দুর্ভোগের শিকার দিরাইয়ের হাজারো যাত্রী

দিরাই প্রতিনিধি :
পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন দিরাইয়ের হাজার হাজার যাত্রী। দিরাইয়ের মদনপুর সড়ক, শ্যামারচর সড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও বন্ধ ছিলো বাস, লেগুনা, সিএনজি চলাচল। আগাম প্রচারণা না থাকায় মঙ্গলবারের ধর্মঘট সম্পর্কে জানতেন না সাধারণ মানুষ। সকালে বাসষ্ট্যান্ডে এসে বিপাকে পড়েন তারা। শতশত যাত্রী আটকা পড়েন। এ সুযোগকে কাজে লাগায় অসাধু মোটর সাইকেল ও ইজিবাইক চালকরা। দিরাই থেকে সুনামগঞ্জে মোটর সাইকেলে শুধুমাত্র যাওয়া প্রতি ট্রিপ ৮০০ টাকা ও মদনপুর পর্যন্ত ৬ -৭ শত টাকায় যাত্রী পরিবহন করা হয়। একইভাবে ইজিবাইক চালকরাও নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশী টাকা আদায় করে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে। নিতান্ত বাধ্য হয়েই বিপুল সংখ্যক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়ায় এসব যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছান। দিরাই, শাল্লা উপজেলাসহ জগন্নাথপুর, কালিয়াজুড়ি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকার যাত্রীরা সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসা-যাওয়ায় দিরাই মদনপুর সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে এপথে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়ত করে থাকেন। দিরাই বাসষ্ট্যান্ড সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দিরাই হতে সিলেট রুটে ২৩ টি বিরতীহীন বাস সার্ভিস নির্ধারিত থাকলেও অগ্রিম টিকিট বিক্রি হওয়াতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি বিরতীহীন বাস চলাচল করে। একই রুটে দিনব্যাপি ১০ মিনিট পরপর লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে।
এছাড়া দিরাই সুনামগঞ্জ ও দিরাই শ্যামারচর সড়কে কয়েকশ লেগুনা ইজিবাইক যাত্রী পরিবহন করে। ধর্মঘটে পরিবহন বন্ধ থাকায় প্রায় ৪হাজার যাত্রী দূর্ভোগের শিকার হন। বেলা ২টায় দিরাই বাসষ্ট্যান্ডে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ, শিশুসহ বিপুলসংখ্যক যাত্রী আটকা পড়েছেন। বাস যাত্রী দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন গ্রামের শাহিন আহমেদ বলেন, প্রবাসে যাওয়ার প্রয়োজনে মেডিকেল চেকআপের কাজে সিলেট যাওয়ার জন্য সেই সকালে আসছি। পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়টি জানতাম না।
সন্ধ্যায় ধর্মঘট শেষ হলে সিলেট যাবেন বলে জানান তিনি। উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামের স্বাধীন জানান, সিলেট যাবো বলে সকালে আসছি, এখনো অপেক্ষায় আছি। একই কথা জানালেন বাসষ্ট্যান্ডে আটকা পড়া একাধিক যাত্রী।
ভাটিবাংলা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি আবদাল আলম চৌধুরী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সরকার নতুন সড়ক আইন প্রবর্তন করেছে। আইন বাতিলের দাবিতে শ্রমিকদের ধর্মঘটের নামে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি দু:খজনক। এমন নৈরাজ্য ঠেকাতে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহবান জানান তিনি।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে মোটর সাইকেল চালক তোফায়েল বলেন, গাড়ির তুলনায় যাত্রী বেশী, যাত্রীরাই ভাড়া বেশী দিতে চাচ্ছেন, তাই আমরা বেশী নিচ্ছি। বাস চালক মো. আমিন বলেন, নতুন সড়ক আইনে চালকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। আমরা দিন আনি দিন খাই। এ আইন শ্রমিকের হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।