দুপুর ২:১১,   বৃহস্পতিবার,   ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং,   ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

মধ্যনগরে কমিটি ঘোষণা ছাড়াই আ.লীগের সম্মেলন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের নিয়মরক্ষার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে কুরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি এবং জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয়নি। তাছাড়া মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে শোক প্রস্তাবও করা হয়নি।
শুক্রবার দুপুরে মধ্যনগর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শুরু হলে স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে আহ্বান না করায় মঞ্চে যাননি তিনি। এদিকে সম্মেলন শুরু হলে সম্মেলন মঞ্চের পেছনে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা ছাড়াই সম্মেলন মঞ্চ ত্যাগ করেন জেলার নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর গত ১৭ অক্টোবর মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য ২৫ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। পরে ওই নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে ৮ নভেম্বর পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন নূরী ও ওই কমিটির সদস্য কুতুব উদ্দিন তালুকদার, রুহুল আমিন খানসহ অন্য নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে গত সোমবার দুপুরে দুটি গ্রুপের নেতাকমর্ীদের মাঝে হামলা ভাঙচুরে ঘটনাও ঘটে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির একাংশের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে ৬ দফা দাবি তোলে ধরে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মঞ্চে আসেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার এম এনামুল কবির ইমনসহ জেলার অন্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় বক্তব্য দেন শুধুমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সহ সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। সম্মেলনে থানা আওয়ামী লীগ বা সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির কোনো সদস্যকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কমিটি ঘোষণার জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাথর্ীদেরকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে একক নাম ৫ মিনিটের মধ্যে দিতে বলা হলে প্রাথর্ীরা বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ফলে কমিটি ঘোষণা ছাড়াই জেলা নেতারা সম্মেলন মঞ্চ ত্যাগ করেন।
সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন নূরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি। তবে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি সদস্য কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সফল হয়নি। আমাদের ব্যানার পোষ্টার ছিড়ে ফেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। দ্বিতীয় অধিবেশন ছাড়াই সম্মেলন শেষ করা হয়েছে।’
স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘আমি জুম্মার নামাজে থাকা অবস্থায় সম্মেলন শুরু হয় তাই মঞ্চে যাইনি। জেলা নেতারা কয়েক মিনিট বক্তব্য দিয়ে সম্মেলন শেষ করেছে। সম্মেলনে শোক প্রস্তাব করা হয়নি। কোরআন তেলওয়াত বা গীতা পাঠ ও জাতীয় এবং দলীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়নি, এটি নিয়মরক্ষার সম্মেলন হয়েছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারায় কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে জেলা থেকে এ কমিটি ঘোষণা করা হবে।