দুপুর ১:৪৫,   শনিবার,   ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,   ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ২৭শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

মরমি কবি হাসন রাজার জন্মদিন আজ

স্টাফ রিপোর্টার :
‘আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে’, ‘একদিন তোর হইব রে মরণ রে হাসন রাজা’ ‘মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে কান্দে হাসন রাজা মন মনিয়া রে’, ‘প্রেমের বান্ধন বান্ধরে দিলের জিঞ্জির দিয়া’, ‘রঙের বাড়ই রঙের বাড়ই রে’, ‘আমি না লইলাম আল্লাজির নাম রে’, ‘লোকে বলে ঘরবাড়ি ভালানা আমার’, আগুণ লাগাইয়া দিলও কুনে হাসন রাজার মনে,’ ‘গুড্ডি উড়াইল মোরে, মৌলার হাতের ডুরি’, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের লেখক হাসন রাজার ১৬৫ তম জন্ম দিন আজ (শনিবার)। ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ ১২৬১) সুনামগঞ্জ
শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণশ্রী পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মরমি সাধক। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হাসন রাজার পিতা দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরীও ছিলেন প্রতাপশালী জমিদার। হাসন রাজা তাঁর তৃতীয় পুত্র। মাতার নাম ছিল হুরমত বিবি। হাসনের পূর্বপুরুষের অধিবাস ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের অয্যোধ্যায়। বংশ পরম্পরায় তাঁরা হিন্দু ছিলেন। হাসন রাজার গানের মাঝে অন্তর্নিহিত রয়েছে নশ্বর জীবন, স্রষ্টা এবং নিজের কৃত কর্মের প্রতি অপরাধবোধের কথা। ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত ২০৬ টি গান নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়। এই সংকলনটির নাম ছিল ‘হাসন উদাস’। এর বাইরে আর কিছু গান ‘হাসন রাজার তিনপুরুষ’ এবং ‘আল ইসলাহ্ ’ সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রীতে মায়ের কবরের পাশে কবর দেওয়া হয় তাঁকে। তার এই কবরখানা তিনি মৃত্যুর পূর্বেই নিজে প্রস্তুত করেছিলেন। মরমী এই সাধকের জন্মদিনে তেমন কোন আয়োজন নেই সুনামগঞ্জে।
হাসনরাজা ট্রাস্টের আয়োজনে আগামী ৩ জানুয়ারি হাসন রাজার গান, গানের সাথে নৃত্য ও হাসন রাজার ছবি বা সৃষ্টিকর্ম নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
হাসন রাজা গবেষক, হাসন রাজার প্রপৌত্র সামারিন দেওয়ান জানিয়েছেন, হাসন রাজা একাডেমীতে হাসন রাজার জন্মদিন ছোটখাটো আয়োজনে উদ্যাপন হবে। হাসন রাজা’র সৃষ্টি কর্ম ধরে রাখার জন্য হাসন একাডেমী’র উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবারের পক্ষ থেকে জমি দেওয়া হবে বলে জানালেন তিনি।



error: Content is protected !!