বিকাল ৩:২৬,   শনিবার,   ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

আমার সময় ও সমসাময়িক পাড়াপ্রতিবেশী লেখক, কবি, সাহিত্যিক এবং আমি

মাশূক ইবনে আনিস :

তখন সবেমাত্র লেখালেখি বিষয় মাথায় এসেছে মাত্র। শুরু —প্রেমপত্র দিয়ে, যাকে বলা হয়ে থাকে চিরকুট। এভাবেই লেখালেখির জগৎ সামান্যমাত্র মাথায় আসতে শুরু করেছেমাত্র। আমার সমসাময়িক একমাত্র সৈয়দ আবু নাসের দিলু ই তখন দু-এক লাইন ছড়া লেখে। আর, মাঝে মধ্যে সৈয়দ ওবায়দুল হকের লেখাও সাপ্তাহিক যুগভেরীর শাপলার মেলায় ছাপা হত। তখনকার সৈয়দ আবু নাসের দিলু ই বর্তমান বহুল প্রচারিত দিলু নাসের। দিলুর ছড়ায় ছিলো দেশপ্রেম ও সংগ্রাম। তাঁর লেখালেখির একটি পারিবারিক পরম্পরা ছিলো। তাদের পরিবারের সবাই থাকতেন সিলেট শহরে। অগ্রজ সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু (মিলু কাশেম) স্বাধীনতাপূর্ব সময় থেকেই লেখালেখি করতেন। তাঁর ছড়া, ছোট গল্প, শিশুসাহিত্য রচনা তখন থেকেই জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ছাপা হত। সেইসব সুত্রেই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের একঝাঁক তরুণ লেখিয়েরা ছিলেন মিলু কাশেমের একান্ত বন্ধুবান্ধব। দেশের শীর্ষস্হানীয় লিখিয়েদের সঙ্গে ছিল মিলু কাশেমের ব্যক্তিগত যোগাযোগ। আর সেই যোগাযোগ ই ছিল দিলু নাসেরের জন্য একটি বড় সহায়ক বিষয়। নিজ মেধা ও ছন্দ তাল মাত্রাজ্ঞান অল্পদিনেই দিলু নাসেরকে শিশু সাহিত্যের এক উচ্চস্হানে নিয়ে যায়। আমার কিশোর সময়ের খুবই নিকটজন ছড়াকার দিলু নাসের। যেহেতু আমি তখনও শহুরে জীবনে আসিনি—তাই, দিলুই ছিলো আমাদের সাহিত্য সংযোগের একমাত্র মাধ্যম। আষট্টি হাজার গ্রামের একটি গ্রাম সৈয়দ পুর। গ্রামে দিলু নাসের ই জাতীয় কচিকাঁচার মেলার প্রথম গ্রামীণশাখা ” গাঙচিল কচিকাঁচার মেলা ” প্রতিষ্ঠা করে। এই শাখা প্রতিষ্ঠায় সেই মধ্য ৮০ দশকে সদ্য প্রয়াত মাহবুব আহসান চৌধুরী বাবর ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট থেকে — জগন্নাথপুর উপজেলার সুনামগন্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর গ্রামে আসেন— কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার পরিচালক, প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, জাতীয় সংগঠক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই সহ শিশুসাহিত্যের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অতিথিসহ দিলু নাসের সৈয়দ পুর গ্রামে এসে শত-শত কচিকাঁচাদের উপস্থিতিতে আমাদের নিয়ে গঠন করে গাঙচিল কচিকাঁচার মেলা। তা সেই মধ্য আশির দশকে।
আমার সময়ে দিলু নাসের ও আমাদের অগ্রজ লিখিয়ে আরও যাদের নাম বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখক হিসেবে ছাপা হত— যারা মিলু কাশেমের সমসাময়িক সময়ে সহযোদ্ধা লিখিয়ে ছিলেন— তাদের মাঝে সৈয়দ জগলুল পাশা, ফরিদ আহমদ রেজা, সৈয়দ ওবায়দুল হক, সৈয়দ নাহাস পাশা, সৈয়দা হান্না আজাদ, সৈয়দ বেলাল আহমদ, সৈয়দ জাওয়াদ যুলফজল প্রমুখের নাম স্মরণযোগ্য। যদিও ইতিপূর্বেই পাঠক জেনে গেছেন যে, সৈয়দ পুরের কৃতীসন্তান বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শাহাদাত হোসেনের নাম এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও ইতিহাসবেত্তা, শিক্ষাবিদ মাওলানা সৈয়দ আকিকুল হকের নাম সর্বাগ্রগন্য ছিল সকলের কাছে।” স্বাতী নক্ষত্রের জল ” খ্যাত উত্তরাধুনিক উপন্যাসের জনক, আজ থেকে প্রায় ৬ দশক আগে— প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শহাদাত হোসেন বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস লিখেছেন বহু সংখ্যক।
প্রজন্মের পরম্পরায় আমার লেখালেখি জীবনে সময়ের হেরফের করে আমরা যারা লিখতে শুরু করেছিলাম— নিঃসন্দেহে সেখানে দিলু নাসের ছিল অগ্রগণ্য। যদিও আমাদের গ্রামের অনেক লেখকের ছাপা বই প্রকাশিত হয়েছিল অনেক বিলম্বে। ফরিদ আহমদ রেজার অনুজ আমার বাল্যবন্ধু— খ্যাতিমান ছড়াকার আহমদ আল ময়েজের লেখালেখির বিস্তৃতি লাভ করেছিল জাতীয় দৈনিকের অনেক শিশুতোষ পাতায়। নব্বই দশকের সূচনালগ্নে আহমদ ময়েজের প্রথম ছড়ার বই “একমুঠো রোদ্দুর “প্রকাশিত হয় সগৌরবে। আমাদের আনন্দ তখন কে দেখে! আমাদের বন্ধু শেখ বদরুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় আর অগ্রজ স্বাধীন ও সৃষ্টিশীল চেতনার ধারক প্রয়াত মণিহকে’র প্রেরণায় আমরা সাতবন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করি সৈয়দ পুর গ্রামের প্রথম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘সপ্তর্ষি ‘। সপ্তর্ষির প্রথম প্রকাশনা আহমদ ময়েজের প্রথম ছড়া গ্রন্থ “একমুঠো রুদ্দুর “। উল্লেখ্য, আহমদ আল ময়েজই কালক্রমে এখন আহমদ ময়েজ নামে দেশে বিদেশে অত্যন্ত সুপরিচিত। লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ-ছাড়াও আহমদ ময়েজের কবিতা এখন বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত হচ্ছে। তার নিজেস্ব সম্পাদনায় ছোটকাগজ ভূমিজ প্রকাশিত হয় অনিয়মিত ভাবে। আহমদ ময়েজের ছেলেবেলার সাথী শামস মোহাম্মদ নূরও এক-সময়ে দেদারছে ছড়া লিখেছেন। বাংলা কবিতার জগতেও শামস মোহাম্মদ নুর — আহমদ ময়েজের প্রেরণা ও অনুপ্রেরণায় কবি হয়ে ওঠেন। তাঁর লেখ্য নাম হয় শামস নূর এবং এই নামেই তিনি এখন সমাধিক পরিচিত। জীবনের প্রাত্যাহিকতায় লেখালেখি আর মুখ্য থাকেনি। এখন সিলেট শহরে শামস নূর একজন প্রেস ব্যবসায়ী এবং প্রকাশনা জগতের অন্যতম ব্যক্তি। এখনও আত্মা ও চিন্তার সংযোগে লিখছেন প্রেমময়ী পংক্তি সমূহ। কবিতার প্রেমে এখনও শামস নুর একজন পুরোদস্তুর পুরোনো প্রেমিক কবি।
আমার সময়ের লেখালেখি বিষয়ের এক পুরোধা ছিলেন অগ্রজ সৈয়দ শাহীন। অনেক গুলো বইও তাঁর আছে। প্রবাসী সৈয়দ শাহীন এখনও লিখছেন নিরন্তর। আমাদের সময়ে এখনো বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমেদ। তাঁর বহুবিদ রচনা বিভিন্ন সাময়িকী ও পত্রিকায় প্রায়ই প্রকাশিত হয়ে আসছে। ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো,সালেহ আহমেদ এর দীর্ঘ শিক্ষা, সমাজ ও সাহিত্য রচনা প্রায়ই পত্র পত্রিকায় সগৌরবে প্রকাশিত হয়। তিনি একাধারে একজন গবেষক এবং বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদনাও করেন সুনিপুণ হস্তে।
বস্তুত: আমি আমার সমসাময়িক লেখকদেরকে এখানে প্রাধান্য দিচ্ছি। যেমন, আমার বন্ধু সৈয়দ মোরশেদ এক অনন্য গীতিকবি। লোকগানের বইও প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। নিজে গান লেখে— নিজে গান গায়। সৈয়দ আজমল হোসেন মুলত: স্বভাব কবি। সাধারণ পাঠাগারের ১৯৮৫ সালের কতকথা ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যায় ‘ বিপন্ন হারিস ‘নামে কবিতা লিখে আমাদের সময়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন। এখনও লিখে যাচ্ছেন। একাধারে কবিতা চর্চা করে যাচ্ছেন— ফরিদ আহমদ রেজার সমসাময়িক কবি সৈয়দ নুরুল ইসলাম সরদার।সাম্প্রতিক তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে।
এই সময়ে সিলেট, বিলেতসহ সর্বমহলে সৈয়দ মবনু একজন বহুল আলোচিত চিন্তাবিদ। যদিয়ু তার ইসলামধর্মীয় চিন্তার রচনা সম্ভারই বেশি। কবিতায়ও তাঁর দক্ষতা আছে। তাঁরই অনুজ সৈয়দ নাসিরও একজন স্বনামধন্য ছড়াকার এবং বার্মিংহাম শহরের একটি পত্রিকার দক্ষ সম্পাদক। সৈয়দ মবনুর প্রথম পুত্র সৈয়দ মুযাদ্দিদও কবিতাকর্ম করেন অত্যন্ত নিভৃতভাবে। আমার অনুজপ্রতিম সৈয়দ দুলাল একজন স্বনামধন্য গীতিকবি। গানেরসমগ্র ছাড়াও অসংখ্য বইয়ের জনক সৈয়দ দুলাল— একনামে আজ দেশে বিদেশে পরিচিত। জাতীয়ভাবেও সৈয়দ দুলালের গান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং বহু-বরেণ্য শিল্পীদের কণ্ঠে গীত হচ্ছে। আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু মুহাম্মদ আবদুল মতিন (মাষ্টার) এর মারিফতি গানের বইও সদ্য প্রকাশিত হয়েছে। সৈয়দা হেমা গান লিখেন। এখনও কোন বই প্রকাশিত হয়নি। বিখ্যাত সংগীত শিল্পী আগুন সহ তাঁর গান গেয়েছেন অসংখ্য গুণীশিল্পী। একই পরিবারের অন্যতম সহোদর সৈয়দ দুলালের অনুজ সৈয়দ হিলাল সাঈফ দীর্ঘদিন ধরে লিখে যাচ্ছেন শক্তিশালী ছড়া। অনেকগুলো বইও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর।আলোচনা ও হয়েছে অনেক।তাঁর লিখা গানও ভীষণ জনপ্রিয় এখন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ তাহমিমুল হক সৈয়দ তাহমিম নামে সমাজের সর্বস্তরে সমাধিক পরিচিত একজন সুলেখক। তাঁর রাজনৈতিক কলাম, গদ্য এবং সামাজিক বিশ্লেষন অনেক পন্ডিতজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। এক সময়ের তারুণ্যের দৃষ্টান্ত উপন্যাসিক তাপু সিকদার। জীবনের প্রথম উপন্যাসেই মেধার সাক্ষর রাখেন। যদি জার্মান প্রবাসী না-হতেন! হয়তো, আমরা আরও সমৃদ্ধ রচনার ভাগিদার হতে পারতাম। আমার সময়ের সবচেয়ে ত্যাগী ও মনোযোগী কবি সৈয়দ নীরব। অকালপ্রয়াত এই কবির কোন বই প্রকাশিত না হলেও তিনি একনামে সিলেটের শহরে ও গ্রামে কবি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। নতুন প্রজন্মের সৈয়দ তাহসিন একজন অসাধারণ কবি। পেন এন্ড পেপার নামে তাঁর একটি সংগঠন আছে। সৈয়দ তাহসিন এর কবিতা কোলকাতায়ও প্রকাশিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে থাকেন ছড়াকার সৈয়দ আব্দুল মজিদ। তাঁরও একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একজন গীতিকবিও, এবং তাঁর রচিত গান বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া হচ্ছে। সৈয়দ আফসার এক একনিষ্ঠ মেধাবী কবির নাম। অনেক শিল্প-উত্তীর্ণ কবিতা সৈয়দ আফসারের কলম থেকে বেরিয়েছে। লিটল ম্যাগের মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করলেও এখন অনেক প্রচারিত কবি তিনি। তাঁরও রয়েছে একাধিক কাব্যগ্রন্থ। সম্পাদনা করছেন সাহিত্যের ছোটকাগজ অর্কিড। সম্প্রতি কর্ণেল( অব:) সৈয়দ আলী আহমেদের দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। অধুনা কাব্যকর্মি এই লেখকের আরও প্রকাশিত গ্রন্থও আছে। সৈয়দপুরী কন্যা সৈয়দা তুহিন চৌধুরী শুধু মাত্র কবিতা চর্চা করেই কবিখ্যাতি পেয়েছেন। সম্প্রতি সময়ে তাঁর দু-দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রবাসে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী কবিতার দিকেই ধাবিত হচ্ছে সবসময়। সৈয়দপুরী কন্যা কবি সৈয়দা তুহিন চৌধুরী লন্ডনের বহুল প্রচারিত সাহিত্য সংগঠন “সংহতির “প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেরত। তরুনদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে একটানা সাহিত্য সাংবাদিকতা চর্চা করছেন আমার প্রিয়জন রেজুওয়ান কোরেশী। তাঁর লেখালেখির আমি একজন নিয়মিত পাঠক। আমার অত্যন্ত প্রিয়জন সৈয়দ জয়নুল হক একজন খুবই শক্তিশালী ছড়াকার। তাঁর অসংখ্য ছড়া এখনও ছাপা হচ্ছে। সে একজন পরিশ্রমী লেখক। আমাদের ইয়াকুব মিয়া জীবনের সম্পূর্ণ সময়টুকুকে ব্যয় করছেন সাংবাদিকতার পেছনে। তাঁর পত্রিকা ” জগন্নাথপুরের পত্রিকা ” নিয়মিত প্রকাশিত হয়।মিলু কাশেমের অনুজ সৈয়দ আবুল মনসুর লিলু একজন দক্ষ ছড়াকার ছিলেন, সংবাদপত্রে কাজও করেছেন দীর্ঘদিন এবং এখনও নিয়মিত লেখালেখি করে যাচ্ছেন। তাঁর দ্বিতীয় ছেলে লন্ডনের প্রখ্যাত কন্ঠ সঙ্গীত শিল্পী। সেও নিজে গান লিখে।তাঁর নাম সৈয়দ নিশাত মনসুর নিস। সে ইউ কে এর মূলধারার গানের ভুবনে নিস নামে সমাধিক পরিচিত। অতি সম্প্রতি সৈয়দপুরের বিশিষ্ট শিল্পপতি সৈয়দ এহসান আহমেদও অনেক গুলো ভ্রমন কাহিনী ও ছড়া নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। সৈয়দ পুরের বউ, আমার অর্ধাঙ্গ সুপ্রিয় লেখক ও কবি নাসিমা জোহা চৌধুরীও অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে দুই বাংলা থেকে। এখনও নিয়মিত ছাপা হচ্ছে কবিতা গল্প কলাম।বর্তমানে অসংখ্য সৈয়দপুরী দেশে বিদেশে নিয়মিত লেখালেখি করে যাচ্ছেন। যাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ খুবই ক্ষীণ। ইউরোপ ও আমেরিকা প্রবাসী অনেকেই কবিতা লিখছেন। সৈয়দা সানিয়া তাদের মাঝে অন্যতম। আমি ভার্চুয়ালে তাঁর কবিতা পড়ি।আমারই মাতৃসম কন্যাজননী রুবাইয়াৎ আনিস তমার ইংলিশ রাইম বা ছড়ার বই প্রকাশিত হয়েছে সেই২০০৫ সালে, যখন তাঁর বয়স মাত্র ১০ বছর। তার বইয়ের নাম ছিলো “পয়েমা “আর তাঁর লেখ্য নাম তমা আনিস।
সৈয়দ আনাস পাশা কবি না হলেও তাঁর কলাম, সংবাদ অহরহ গণমাধ্যমে আসে, আসছে। আমার সময়ে বা আমাদের লেখালেখি শুরুরপর্বে— আমার বন্ধু জামান সৈয়দ নাসের, সৈয়দ মারুফ, সৈয়দ শামীম (এড) আমার বাল্যবন্ধু আবদুল আজিজ শান্তু, সাহিত্যের আজন্ম পিপাসু সৈয়দ আহমদ আলী সহ অনেকেই লেখোভ্যাস ও পাঠোভ্যাসে বুঁদ ছিল তখন।
সমসাময়িক সাহিত্য চর্চায় আজ আমি অনেক পেছনে রয়েছি। একজন দিলু নাসের সর্বজনখ্যাত ছড়াকার, গীতিকার ও কবি। আহমদ ময়েজ প্রতিষ্ঠিত লেখক, সাংবাদিক। শামস নূর এখনও আমার চেয়ে অনেক বড় কবি ও সমালোচক। আর আমি কলমকাগজের এই মহান বিদ্যালয়ে এখনও আদুভাই। শিখছি তো ভুলে যাচ্ছি। ভুলে যাচ্ছি তো শিখবার চেষ্টা করছি। পরম মমতায় প্রেমিকাতুল্য কবিতার চরণে নিজের দুইহাত সমর্পণ করে— অবিরাম মনে মনে জপে যাচ্ছি — কবিতার মহাগুরু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতুলনীয় বাণী— “আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধুলার তলে, সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে “।
বি :দ্র : লেখাটি পরিমার্জনা এবং অনেক লেখকের নাম অন্তভুর্ক্ত করেছি
সিলেট, ৬ মে- ২০২০
অনুলেখন : কবি নাসিমা জোহা চৌধুরী