রাত ১২:৪২,   বৃহস্পতিবার,   ২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

জাফলংয়ে খুন হওয়া শ্রমিক রাসেল মিয়ার দাফন সম্পন্ন

তাহিরপুর প্র‍তিনিধি :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকার ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শ্রমিক রাসেল মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার রাত ১১টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বেতাগড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাযা নামাজ শেষে মনতলা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ধান ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় রাসেল মিয়ার মরদেহ নিহতর পিতার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে শনিবার রাত ১০টার দিকে মরদেহ নিয়ে নিহতর বাড়িতে আসলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ছেলের মরদেহ দেখে বাবা-মা ও তার আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়লে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে কাজ শেষে রাসেল বাজারে এসে টেলিভিশন দেখতে যায়। এসময় তার সাথে থাকা ৫ জন জাফলংয়ের একটি ধান ক্ষেতে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। এরপর বৃহস্পতিবার পরিবারের পক্ষ থেকে রাসেল নিখোঁজ রয়েছে মর্মে গোয়াইনঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে রাসেলের বাবা। এর পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ জাফলংয়ের একটি ধানক্ষেত থেকে রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
তাৎক্ষণিক গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদসহ পুলিশের একটি টিম এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মেহেদি হাছানকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যমতে বাকি ৪ জনকেও আটক করে পুলিশ। তবে, পূর্ব শত্রুতার জেরে রাসেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ এ ঘটনায় ৫ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত বুধবার রাতে রাসেল বাড়ি থেকে বের হন। রাতে আর বাড়ি ফিরে না আসায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার গোয়াইনঘাট থানায় নিখোঁজ আছে মর্মে একটি জিডি করেন। এই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ রাসেলের সন্ধান করতে গিয়ে শুক্রবার জাফলংয়ের একটি ধান ক্ষেতে রাসেলের লাশ পড়ে থাকতে দেখে। তাৎক্ষণিক পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।
আটককৃতরা হলো, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর এলাকার মৃত শানুর মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), একই উপজেলার আব্দুল জালাম মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম মিয়া (৩০), মো. রইচ উদ্দিনের ছেলে সুলেমান মিয়া (৩৫), তরং এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে নজির হোসেন (২৮) এবং একই এলাকার মৃত জামাল মিয়ার ছেলে শাহিদুল ইসলাম (২৬)।