সকাল ১১:০৫,   সোমবার,   ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হাট-বাজারে জনস্রোত

নোহান আরেফিন নেওয়াজ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ :
করোনা ভাইরাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এই ভয়ঙ্কর রোগ থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজন সামাজিক দূরত্ব ও সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা।
কিন্তু দক্ষিন সুনামগঞ্জের জনসাধারণ ছুটছেন তার উল্টোপথে। এই বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে ভীড় জমাচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারে। আর ১০ মে থেকে সীমিত আকারে দোকানকোঠা খুলে দেওয়ার ঘোষণা শোনে আরো লাগামছাড়া হয়ে ওঠেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মানুষ। লকডাউন না ওঠলে ও ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার হাট-বাজারে, রাস্তায় এখন জনতার স্রোত। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশনা দেওয়া হলে ও তা মানতে নারাজ তারা।ফলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম বীরগাঁওর টাইলা গ্রামে সর্বপ্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হন গত ২৩ এপ্রিল। আক্রান্ত ২০ বছরের এই কিশোরী স্থানীয়ভাবেই সংক্রমিত হন। পরবর্তীতে তার সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হন ওই কিশোরীর বাবা ও ভাই। এরপর গত ২৪ এপ্রিল উপজেলার পূর্ব পাগলার চিকারকান্দি গ্রামে আরেকজন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হন। এমনকি তার সংস্পর্শে আক্রান্ত হন তার আপন ছোট ভাই ও বোন। একই দিনে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এক সহকারীর এবং আরো এক যুবকের। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সর্বশেষ করোনা আক্রান্ত একই পরিবারের ৩ জন রোগী পাওয়া যায় ১৬ মে। তারা প্রত্যেকেই ১৩ মে সনাক্ত হওয়া বাবার সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হন। এভাবেই চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। তবে এর মধ্যে ২ জন সুস্থ্য হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এভাবে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারণের মাঝে আতংক বিরাজ করলে ও নেই সচেতনতা। ফলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে করোনা ঝুঁকির মাত্রা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটা করতে মানুষের ঢল নেমেছে হাট-বাজারে। দোকানগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই মানছেন না সামাজিক দুরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। কেউই ব্যবহার করছেন না মাস্ক কিংবা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী। এতে করোনার হার মারাত্নকভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন উপজেলার সুসীল শ্রেনীর নাগরিকরা।
এদিকে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রশাসন পারছে না কঠোর হতে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছেন অসচেতন নাগরিকরা।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, জনগনকে শুরু থেকেই করোনা বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। অসচেতন মানুষদের ঘরে থাকতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছিল। তবে দোকানপাঠ খোলার নির্দেশনা পাওয়ার পর মানুষদের আর কোনো ভাবেই আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে থানা পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ঈদের পরে কঠোরভাবে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হবে ।