রাত ১:১৮,   বৃহস্পতিবার,   ২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ধর্মপাশায় টিনের বেড়ায় গৃহবন্দি এক পরিবার

ধর্মপাশা প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের বিজয় সরকারের পরিবারকে ৬ মাস ধরে টিনের বেড়া দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই পরিবারের বসতঘরের তিন পাশে উঁচু করে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়ায় ঘরের ভেতরে আলো-বাতাস প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা বন্দি জীবনযাপন করছেন।
টিনের বেড়া অপসারণ করে চলাচলের পথ সুগম করে দেওয়ার জন্য আজ রোববার (৩১ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বিজয় সরকার।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন হিসেবে বিজয় সরকার ২০১৬ সালে মধ্যনগর ইউনিয়নের বৈঠাখালী মৌজার ১নং খতিয়ানের ১০৩/৩১৯ দাগে ০.৫৫ একর ভূমি সরকারি বিধি মোতাবেক ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে সেই ভূমিতে বতসঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। ওই বসতঘরের পূর্বদিকে তার উঠানের উপরে স্থানীয় রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রম অবস্থিত। ওই রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক দাবিদার গোপেশ সরকার, মধ্যনগর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদার ও হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজয় সরকারের উঠানের জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গোপেশ সরকার, দেবল কিরণ তালুকদার ও মৃদুল সরকার ৬ মাস আগে শ্রমিক নিয়োগ করে বিজয় সরকারের বসতঘর ঘেঁষে পূর্ব ও দক্ষিণপাশে উঁচু করে টিন দিয়ে বেড়া দেন। গোপেশ সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে বিজয় সরকারের বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেছেন। এছাড়াও মধ্যনগর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি সরকারের দুঃসম্পর্কের মামা সত্য বিশ্বাসও পশ্চিমদিক থেকে বিজয় সরকারের জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সত্য বিশ্বাসের ছেলে ছেলে সুমন বিশ্বাস ও সুজন বিশ্বাস বিদ্যুৎ কান্তি সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তাদের লোকজন নিয়ে গত ১৬ মার্চ বিজয় সরকারের ওপর হামলাও করেন। এদিকে সত্য বিশ্বাস বিজয় সরকারের বসতঘর ঘেঁষে পশ্চিমদিকে টিনের বেড়া দিয়েছেন। বসতঘরের উত্তরপাশ দিয়ে শুকনো মৌসুমে হাওরের উপর দিয়ে বিজয় সরকার বাজারে যাতায়াত করতে পারলেও এখন হাওরে পানি চলে আসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী বিজয় সরকার বলেন, ‘গোপেশ সরকার, দেবল কিরণ তালুকদার ও মৃদুল সরকার লোক দিয়ে গত অগ্রহায়ণ মাসের ১০ তারিখে আমার জায়গায় বসতঘরের দক্ষিণ-পূর্বদিকে এবং সত্য বিশ্বাস পশ্চিমদিকে বেড়া দিয়ে আমাকে ঘরবন্দি করেছেন। আমি এ থেকে পরিত্রাণ চাই।’
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘এ ঘটনার সত্যতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি এবং বিষয়টি জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি।’
অভিযুক্ত গোপেশ সরকার বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের লোকজন বেড়া দিয়েছে। তবে কে বা কারা দিয়েছে তা জানি না। বিজয়ের বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।’
টিনের বেড়া দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত কি না তা স্পষ্ট না করে অভিযুক্ত দেবল কিরণ তালুকদার বলেন, ‘আমি আশ্রমের সদস্য, কমিটির কেউ না। আশ্রমের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুই জানি না।’
আর বিদ্যুৎ কান্তি সরকার বলেন, ‘আমি অন্য দশজনের মতো সালিশে উপস্থিত ছিলাম। এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই আমি জড়িত না। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই পরিবারটিকে অবরোধমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আমার প্রভাব খাটিয়ে কেউ এমনটি করার কথা নয়। মামাতো ভাই সুমন জানিয়েছে তারা তাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মধ্যনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’