বিকাল ৩:৩৭,   শনিবার,   ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সুনামগঞ্জের ফার্মেসিগুলোতে নেই নাপা, টোফেন!

স্টাফ রিপোর্টার :
সুনামগঞ্জে ওষুধের দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় কোনো ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে, করোনাভাইরাস ভীতি ও অন্যদিকে আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত সর্দি, জ্বর, কাশি দেখা দেয়ায় ফার্মেসিগুলো হিমশিম খাচ্ছে গ্রাহককে ওষুধ দিতে। এমনকী, ফার্মেসিগুলোতে নেই নাপা, টোফেন, এইচ সিরাপসহ প্যারাসিটামল জাতীয় কোনো ওষুধ।
সরজমিনে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা ও সদর হাসপাতাল এলাকার ফার্মেসিগুলো ঘুরে দেখা যায়, বাজারে অন্যান্য রকমের ওষুধ কম বেশি থাকলেও বাজারে নেই জ্বর, সর্দি ও কাশির ওষুধ। নাপা ট্যাবলেটও নেই বাজারে। তাছাড়া শিশুদের জ্বরে ব্যবহার করা নাপা সিরাপ ও সর্দি-কাশিতে ব্যবহার হওয়া টোফেন সিরাপসহ বড়দের নাপা এইস, নাপা এক্সটেন্ড ও নাপা এক্সট্রাসহ এরকম ওষুধ ফার্মেসিগুলোতে নেই বললেই চলে।
তাছাড়া প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার আপাতত রোগী না দেখায় পরিচিত ওষুধ ব্যবহার করে রোগমুক্তির জন্য এসব ওষুধের প্রয়োজন পড়লেও এখন ফার্মেসিতে এগুলো না থাকায় বিপাকে পড়েছেন অনেকে। তাছাড়া হাতেগোনা কয়েকটি ফার্মেসিতে কিছু ওষুধ থাকলেও সেগুলো বেশি জরুরি ছাড়া কাউকে দিচ্ছেন না তারা।
বাচ্চার জ্বরের ওষুধ নিতে আসা উসমান আহমেদ বলেন, বাচ্চাটার জ্বর হয়েছে, কিন্তু নাপা সিরাপ পাচ্ছি না। প্রায় ৪টা ফার্মেসি ঘুরে এলাম নেই। নাপা ট্যাবলেট খুঁজলাম সেটিও নেই। করোনাভাইরাসের কারণে নাকি ওষুধের উপাদান বাইরে থেকে আনতে পারছে না।
শহরের জেসি ফার্মেসির ম্যানেজার কবির আহমদ বলেন, আমরা মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো দিতে পারছি না। যার মধ্যে বাচ্চাদের নাপা সিরাপ, টোফেন সিরাপ বাজারে নেই। ওষুধ কোম্পানির গাড়ি এলেও এগুলো তাদের কাছে না থাকায় আমাদেরও দিতে পারছে না।
নিলু ফার্মেসির ম্যানেজার হেলাল খান বলেন, আমাদের কাছে বাচ্চাদের জ্বর সর্দি কাশির ওষুধ নেই। তার মধ্যে নেই নরমাল নাপা, নাপা এক্সেটেন্ড, নাপা এইস ইত্যাদি। মানুষজন এগুলোই এখন বেশি খুঁজতে আসে। কিন্তু এগুলো আমরা দিতে পারি না। আশা করি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সব আগের মতো হয়ে যাবে।
প্রীতম ড্রাগ হাউজের মালিক রূপম দাস বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ওষুধের কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যার মধ্যে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধটাই বেশি। ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম বিদেশ থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ওষুধের উপাদান আসা বন্ধ রয়েছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার আগের মতো হয়ে যাবেও বলে জানান তিনি।
এদিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ রয়েছে বলে সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে আমাদের ওষুধ রয়েছে। কোনো রোগী যদি জ্বর সর্দি কাশি হয় তাহলে তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রদান করা হবে। তাছাড়া সকল উপজেলায়ও সরকারি ওষুধগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।