দুপুর ১২:৪১,   সোমবার,   ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

অসহায় ময়েশা বিবি’র পাশে ডিসি আব্দুল আহাদ

স্টাফ রিপোর্টার :
সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল শাল্লা উপজেলা। সেই শাল্লা উপজেলা থেকে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে এসছেন উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের চব্বিশায় গ্রামের ময়েশা বিবি। বয়স ৯৩ বছরের এই অসহায় বৃদ্ধ মহিলা এসেছেন একটু সাহায্যর জন্য। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে বিষয়টি জানার সাথে সাথে বৃদ্ধা এ মাকে ডেকে নেন অফিসে। বসতে বলেন এবং শুনের বৃদ্ধা মায়ের কষ্টের গল্প।
জানাযায়, বৃদ্ধা ময়েশা বিবি’র স্বামী খলিল মিয়া মারা গেছেন বহু আগে। শাল্লার প্রত্যন্ত গ্রাম চব্বিশায় অসহায় এক ছেলে সন্তান নিয়ে তার বসবাস। ছেলে পাথর ভাঙার কাছ করতে গিয়ে পরিবারের উপার্যনক্ষম সেই সদস্যও দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে বিছানায়। বয়স বেশি হওয়ায় নিজেরও কাজ করার মতো ক্ষমতা নেই তার। বসবাসের জন্য যে ঘরটি রয়েছে তাতে ছাউনি নষ্ট হয়ে গেছে। রোদ-বৃষ্টিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিতান্তই কষ্টে দিন যাপন করছেন তিনি। বর্তমানে শীতের মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। রোদ-বৃষ্টি ও তীব্র শীত থেকে রক্ষার জন্য বসতঘরটি মেরামতের আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে।
পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ সাথে সাথে খোঁজ নেন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে। সেখানে তিনি জানতে পারেন বৃদ্ধা ময়েশা বিবি বয়স্ক ভাতা পান। কিন্তু জেলা প্রশাসক বুঝতে পারেন বয়স্ক ভাতার বৃদ্ধা মায়ের সংসার আসলেই চলা দায়। তখন তিনি তাক্ষনিকভাবে পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দেন এবং সেই সাথে কিছু শুকনো খাবার খাইয়ে দেন। পরে জেলা প্রশাসক নিজের ব্যক্তিগত ত্রাণ ভান্ডার থেকে প্রদান করেন শীতবস্ত্র। বসতঘরটি সংস্কারের জন্য ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার প্রদান করবেন বলে নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের কাছে এতো ভালোবাসা পেয়ে কষ্টের মধ্যে হাসি ফুটে উঠে ময়েশার বিবির মুখে। তিনি জেলা প্রশাসকের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন এবং তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবেন বলেও জানান।