বিকাল ৩:৫৮,   মঙ্গলবার,   ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

ঈদ শপিং : সুনামগঞ্জে মার্কেটে উপচে পড়া ভীড়

বিশেষ প্রতিনিধি :
মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ছিল সুনামগঞ্জ শহরের দোকানপাট, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্প ইন্ডাস্ট্রি ও সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জরুরি সভা করেন।
সভায় চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছিলেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে ঈদের আগ পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখেনি ব্যবসায়ীরা।
শনিবার(১৬ মে) সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান খুলে বসেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেট ও দোকান গুলোতে বেলা ১০টা থেকেই ছিল উপচে পড়া ভীড়। পুলিশ কয়েক দফা মারমুখি আচরণ করেও বন্ধ করতে পারেনি মার্কেটমুখি মানুষের ঢল। মার্কেটমুখি মানুষের কারণে জরুরি কাজে বাজারে আসা মসাধারণ মানুষজন বিপাকে পড়েন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকেই শহরের পশ্চিমবাজার ও মধ্যবাজারের অধিকাংশ মার্কেট ও বিপণী বিতাণ খোলা ছিল। ইউনাইটেড প্লাজা, আফাজ বিল্ডিং, খন্দকার মার্কেট, লিলি প্লাজায় কাপরের দোকান গুলোতে ছিল উপচে পড়া ভীড়। গ্রামঞ্চলের মানুষজন শিশুদের নিয়ে ভীড় ঠেলে ঈদের শপিং করতে আসছেন। দোকানে গাদাগাদি করে তাঁরা কাপর কিনেছেন। তবে, এক’দুটি মার্কেট কেনাকাটা করতে আসা লোকজনকে মার্কেটের পক্ষ থেকে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা গেছে।
এদিকে দোকানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে ছিল না সামাজিক দূরত্ব। মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস না পড়েই বিকিকিনি করছেন দোকানদার।
মধ্যবাজার ও পশ্চিমবাজার এলাকায় মানুষের সামলাতে না পেরে পুলিশ মারমুখি অবস্থান নেয়। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে দোকান মালিকদের পুলিশ নির্দেশ দেয় স্বাস্থবিধি মেনে বিকিকিনি করার জন্য। কিন্তু পুলিশ চলে যাবার পর আবার জঠলা তৈরি হয় দোকান গুলোতে। এছাড়া ট্রাফিককপয়েন্ট থেকে পশ্চিমবাজার পর্যন্ত যানজট কমাতে পুলিশের হিমশিম খেতে হয়।

এছাড়া স্বল্প পরিসরে দোজা মার্কেট, নেজা প্লাজা, মৌ ফ্যাশন, প্রিন্স সু স্টোর, সৌখিনের মত বড় দোকান গুলোতেও বিকিকিনি হয়েছে।
সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা এলাকা থেকে আসা মঈন উদ্দিন বলেন, ‘বাচ্ছাদের জন্য জামাকাপর কিনতে এসেছি। আমাদের ঈদ না থাকলে কি হবে, বাচ্ছাদের তো ঈদ আছে।’
হটাৎ করে শহরে ঈদ উপলক্ষ্যে মানুষের চলাচল বেড়ে যাওযায় করোনার রোগী বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে জেলা স্বাস্ত্য বিভাগও।
শহরের বড়পাড়া এলাকার মাসুক মিয়া বলেন, ‘সরকার এত পদক্ষেপ নিচ্ছে মানুষের ভালোর জন্য, কিন্তু আমরা জনগনই তা মানছি না। তার বড় প্রমাণ ঈদের শপিং করতে মার্কেটে মানুষের ঢল।’
সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী খুশনূর বলেন, সরকার যেহেতু নির্দেশনা দিয়েছেন. কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য, তাই অনেকেই তাদের প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছেন। কিন্তু করোনার প্রকোপ দেশে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে সুনামগঞ্জের সকল বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আগামী ঈদ পর্যন্ত চেম্বার ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে সবাই দোকানপাটগুলো বন্ধ করে দেবে বলে আশা করি।

সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, আমরা ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছি এই করোন ভাইরাসের মতো মহামারীর ভয়াল থাবা থেকে সুনামগঞ্জের মানুষকে নিরাপদে রাখতে। আসন্ন ঈদুল ফিতর পর্যন্ত সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে উপনীত হলেও আজ কিছু ব্যবসায়ীরা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়েছেন, তা সুনামগঞ্জবাসীর জন্য অশনি সংকেত।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সবাইকে স্বাস্থবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সব কিছু করতে হবে। একজন মানুষ নিরাপদে থাকলে তার পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র নিরাপদে থাকবে। কাজেই সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে সকল ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানগুলো বন্ধ রাখা জরুরী।