ভোর ৫:১০,   বুধবার,   ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

চামড়া নিয়ে যা বললেন ইউপি চেয়ারম্যান

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :
সিলেটের আম্বরখানায় চামড়া নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের অভিযানের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে জড়িয়ে বিভ্রান্তিমুলক তথ্য প্রচার করায় চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরিন তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন। পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
‌‌’সম্মানিত মিরপুর ইউনিয়ন বাসী,আজকের ভাইরাল হওয়া নিউজ টা নিয়ে আপনারা সবাই হয়তোবা বিভ্রান্তির ভিতর আছেন। তাই আমি সত্য ঘটনাটা তুলে ধরছি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পড়ে যে, কোরবানির পশুর চামড়া কোনমতেই মাটিতে পোতা যাবে না বা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া যাবেনা। সেই হিসেবে আমি মিরপুর ইউনিয়নের প্রত্যেকটি মসজিদ এবং মেম্বার সাহেবদের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দেই।
গতকাল ঈদের দিন সকল মাদ্রাসা থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয় যে , তাহারা পশুর চামড়া গুলো বিক্রি করতে পারছেন না। আমি জগন্নাথপুরের ,ইউএনও মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করি , তিনি আমাকে একজন ডিলারের ফোন নাম্বার দেন। আমি ডিলারের সাথে যোগাযোগ করলে , আমাকে বলেন যে তিনি আর কোন পশুর চামড়া খরিদ করতেছেন না। উপায়ন্তর না দেখে আমি ৩টা পিকআপ ভ্যান নিয়ে প্রায় ৬৫০ পশুর চামড়া সিলেট পাঠিয়ে দেই।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাত একটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোন ক্রেতা মিলে নাই। তখন বাধ্য হয়ে আম্বরখানাস্থ আমাদের একটি প্রতিষ্ঠান , যেখানে অনেক খালি জায়গা আছে ,সেখানে পাঠিয়ে দেই, কেননা সাথে সাথে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত না করলে চামড়া গুলো নষ্ট হয়ে যাবে, তখন মাত্র পাঁচ বস্তা লবণ জোগাড় করা সম্ভব হয়, পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে ৩৫বস্তা লবণ আটশত টাকা করে খরিদ করি এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য‌ পনের শত টাকা রোজে ১০ জন লোক নেই।
কিন্তু লোকজন যাওয়ার আগেই সিলেটের মেয়র মহোদয় ওই জায়গায় পৌঁছে যান এবং আমাকে ফোন করেন, জানতে চান চামড়া গুলা এখানে রাখা কেন। আমি মেয়র মহোদয় কে বিস্তারিত বলার পরও উনি বললেন আমি চামড়াগুলো জব্দ করলাম এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমি মেয়র মহোদয় কে অনুরোধ করলাম যে এই চামড়া গুলা থেকে যে টাকা আসবে এই টাকা গুলা মাদ্রাসার এতিম মিসকিন বাচ্চাদের জন্য খরচ হবে এবং খুব তাড়াতাড়ি আমি সে ব্যবস্থা নিতেছি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় উনি ফোন কেটে দিয়ে লাইভ প্রোগ্রামে যে কথাগুলো বললেন তা খুবই দুঃখজনক । যেখানে ৬৫০টি চামড়া ছিল সেখানে তিনি বলেছেন চার থেকে সাড়ে চার হাজার চামড়া এবং জোরপূর্বক আমাদের জায়গার গেইট ভেঙ্গে বুলডোজার দিয়ে সবগুলি চামড়া নিয়ে যান। আপনারা যে খবর গুলো ভাইরাল দেখতেছেন একজন ফেইসবুক লাইভ নেয়া ওই ব্যক্তি আমার মতামত অথবা বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন নাই।
আমি বিশ্বাস করি আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ জনবিরোধী, আইন বিরোধী, এমন কোন কাজ আমার জানা মতে করি নাই। এবং আপনারা মিরপুরবাসী লজ্জিত হবেন ইনশাআল্লাহ এমন কাজ আমি করবো না। আশা করি আমার এই লেখা থেকে বিষয়টি কিছুটা হলেও পরিষ্কার হবে। শীঘ্রই আমি সংবাদ সম্মেলন করে সম্পূর্ণ বিষয়গুলো দেশবাসীর কাছে জানিয়ে দেবো ।’