রাত ১০:০৮,   বৃহস্পতিবার,   ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

ফতেপুর ইউনিয়নকে বদলে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান রাজন

বিশেষ প্রতিনিধি :
রনজিত চৌধুরী রাজন। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার থেকে ওয়ান ইলেভেন, রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন, বিরোধী দলের জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচির প্রতিবাদ সব কিছুতেই ছিলেন প্রথম সাড়িতে। অর্থ আর পদবির পেছনে না দৌঁড়ে আ.লীগ আর শেখ হাসিনাই যেন তাঁর সব কিছু।
সর্বশেষ আলোচনায় এসেছেন নিজ নির্বাচনী এলাকায় জুন মাসের শেষ দিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করা খাবার, ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে। গলা পানি, কোমর পানি ভেঙে ঘরে ঘরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় তাঁর প্রশংসা এখন মানুষের মুখে মুখে। রাত-বিরাতে বন্যার সময় পাশে থেকেছেন ইউনিয়নবাসীর।

ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসা রনজিত চৌধুরী রাজন এখন জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সর্বশেষ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন মনোনয়ন না পেলেও ইউনিয়নের ভোটাররা তাকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী করে।
বিশাল ব্যবধানে জয়ী হওয়া রাজন ভোটারদেও কাছে দেয়া কথাও রেখেছেন। জরার্জীর্ন এক ইউনিয়নকে তিনি কয়েক বছরে জেলার সব চেয়ে আধুনিক ইউনিয়নে রুপান্তরিত করার চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। যে ইউনিয়নের মানুষ মাটির রাস্থার কথা চিন্তা করতেও পারতো না, সেখানে তিনি ইউনিয়নের পাড়ায় পাড়ায় পাকা সড়ক নির্মাণ করার উদ্যেগ নিয়েছেন।

ফতেপুর ইউনিয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আগে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। জরার্জীর্ন ভবনে কার্যক্রম চলতো। রাজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরেই ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেন। ইউনিয়নে ৩০টি গ্রামে নির্মাণ করেছেন মাটির রাস্থা। ১০-১২টি পাকা সড়ক নির্মাণ করেছেন। উদ্যেগ নিয়েছেন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সড়ক বাঁতি লাগানোর। ইতিমধ্যে ইউনিয়নে ২৫টি লাইট স্থাপন করা হয়েছে। হাওর অধ্যুষিত ইউনিয়নে যা মানুষের কাছে স্বপ্নের মত। মাটির রাস্থা গুলোতে করেছেন বৃক্ষরোপন।
বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুব লীগের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্যেও দ্বায়িত্ব পালন করছেন রনজিত চৌধুরী রাজন।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ইউনিয়ন কার্যালয়ে বিদ্যুতের সংযোগও ছিল না। আমি দ্বায়িত্ব নেয়ার পরেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে মাটি ও পাকা সড়ক নির্মাণ করার চেষ্ঠা করছি। হাওর বেষ্টিত হওয়ায় পুরো ইউনিয়নে সড়ক নেটওয়ার্কেও আওতায় আনা অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি খুব চেষ্টা করছি আবুয়া নদীর উপরে সেতুরটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে। এই সেতুটির কাজ শেষ হলে ইউনিয়নবাসীসহ তাহিরপুর উপজেলার লোকজনও দ্রুত জেলা শহরে পৌঁছাতে পারবেন।
তিনি বলেন, সরকার থেকে গরীব, দুস্থদের জন্য যে বরাদ্ধ দেয়া হয়, তা সব সময় স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণের চেষ্ঠা করি। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অনেক মানুষ সাহায্য থেকে বঞ্চিত হন। ব্যক্তি উদ্যেগসহ দানশীল মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা এনে বঞ্চিতদের সহয়তা করি। আমার স্বপ্ন ফতেহপুর ইউনিয়নকে ডিজিটাল, পরিবেশ বান্ধব, উন্নত একটি ইউনিয়নে রুপান্তরিত করার।