ভোর ৫:৫১,   বুধবার,   ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ,   ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,   ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

যাদুকাটায় ত্রাণের জন্য আর্তনাদ!

আবির হাসান-মানিক :
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে কর্মহীন হয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা পাড়ের শ্রমিকেরা।
বিপাকে পড়েছে আয়ের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বন্ধ হবার কারনে। কর্মহীন হয়ে পড়া এসমস্ত নিম্নআয়ের শ্রমিকদের চোখে এখন কেবলই আতংকের সংমিশ্রণে হতাশার দীর্ঘশ্বাস। দুমুঠো খাবারের সন্ধানে চারপাশ ছুটাছুটি করে শূন্য হাতে ভগ্ন হৃদয় নিয়ে পরিশ্রান্ত দেহটা যেন আর সামনে চলতে চাই না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মহীন হয়ে পড়া এক শ্রমিকের ৩জন ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে রোজগারের সন্ধানে বের হয়েছে যাদুকাটা নদীতে। কৌতূহল মেটাতে জিজ্ঞেস করলাম, মহামারি করোনাভাইরাসের নাম শুনেছ? মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। বর্তমান এ পরিস্থিতিতে ভয় লাগেনা? ৩ জনই মৃদু হেসে বলে উঠল না, ভয় করেনা। এরকম পরিস্থিতিতে এতো অল্প বয়সে নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন বের হয়েছ? মা-বাবা কাজ করতে পারেনা, তাই আমরা ৩ ভাই বোন মিলে নদীতে লোকজন পাড়াপাড়ের কাজে নৌকা নিয়ে বের হইছি।
যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার শ্রমিক করোনা পরিস্থিতিতে বেকার কর্মহীন হয়ে বর্তমানে খাদ্য সংকটে দিনাতিপাত করছে। সরকারি বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগের বিতরণ করা খাদ্য সামগ্রীও জুটছেনা তাদের কপালে। ফলে এ সমস্ত কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন হাজারো শ্রমিকদের কর্মহীন হয়ে পড়ায়, তাদের ছেলে-মেয়েরা উপার্জনের নানান উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু দিনশেষে শুধুই হতাশা আর শূন্য হাতে বাড়ি ফেরা ছাড়া কোন উপায়ান্তর পাচ্ছে না। বর্তমানে যাদুকাটা পাড়ের হাজারো শ্রমিকদের খাদ্য সংকটের আর্তনাদে যাদুকাটার আকাশ যেন দিনকি দিন ভারি হয়ে উঠেছে।
যাদুকাটা নদীতে কাজ করা বাদাঘাট(উ.) ইউনিয়নের গড়কাঠি গ্রামের জাকির মিয়া বলেন, নদীতে বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। হাতে টাকা পয়সা যা ছিলো, এখন তাও পুরিয়ে গেছে। সরকারি কোন সহযোগিতাও আমরা পাচ্ছি না। দু চোখে এখন শুধু অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি।
যাদুকাটা বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুস শাহীদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যাদুকাটা নদীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো এমন হাজারো শ্রমিক আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে যেসব খাদ্য সামগ্রী সহায়তা হিসেবে দেয়া হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ অঞ্চলের খেটে-খাওয়া এসব শ্রমিকরা খাদ্য সংকটে ভুগছে। আমার সমিতির অধীনে প্রায় ২ হাজারের মতো শ্রমিক রয়েছে অথচ খাদ্যসামগ্রী সহায়তায় ১৫০ জনের নাম নিয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের শ্রমিকদের খুঁজ খবর নিয়েছেন এ ছাড়া আজ পর্যন্ত চেয়ারম্যান, মেম্বার কেউ-ই আমাদের শ্রমিকদের খুঁজ নেইনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি বলেন, শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছে। তাই এ সমস্ত কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের নিয়ে তালিকা তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয় বালু-পাথর সমিতি, চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড সদস্যদের বলা হয়েছে দ্রুত তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট জমাদানের জন্য।